ADD

Breaking

Wednesday, January 28, 2026

মেয়েটি শত চেষ্টা করেও রেহাই পেল না এই লোকটির হাত থেকে

 মেয়েটি শত চেষ্টা করেও রেহাই পেল না এই লোকটির হাত থেকে


“মেয়েটি শত চেষ্টা করেও রেহাই পেল না এই লোকটির হাত থেকে”


মেয়েটির নাম কেউ জানে না। জানার দরকারও পড়ে না। কারণ সে একা নয়, সে অনেকের প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনের মতোই সেদিন সকালে বের হয়েছিল। কাজ ছিল, দেরি হলে সমস্যা। চারপাশটা পরিচিত, রাস্তাটা চেনা। তবু বুকের ভেতর অজানা একটা শঙ্কা কাজ করছিল, যেটা সে নিজেই পাত্তা দিতে চায়নি।

লোকটাকে সে আগেও দেখেছে। আশপাশেই ঘোরাফেরা করত। প্রথমে কটূ কথা, তারপর দৃষ্টির অশালীনতা। মেয়েটি চেষ্টা করেছিল এড়িয়ে যেতে, মুখ না খুলতে, বিষয়টাকে বড় না বানাতে। সমাজ তাকে শিখিয়েছে চুপ থাকতে। “ঝামেলা কোরো না”—এই উপদেশটাই সে বারবার শুনে এসেছে।

সেদিনও সে চেষ্টা করেছিল দ্রুত হাঁটতে। দৃষ্টি নামিয়ে রাখতে। লোকটিকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে। কিন্তু ‘না’ বললেই যে সব থেমে যায়, বাস্তবতা তেমন নয়। আশপাশে মানুষ ছিল, কিন্তু কেউ যেন দেখেও দেখেনি। ভয়টা তখন আরও ঘন হয়ে আসে। সাহায্য চাইবে ভেবে গলাটা শুকিয়ে যায়। শব্দ বের হয় না।

ঘটনাটা বেশি সময়ের ছিল না, কিন্তু সেই কয়েকটা মুহূর্ত তার কাছে অনন্তকালের মতো লেগেছে। সে রেহাই পায়নি। শুধু শরীর নয়, তার বিশ্বাস, তার নিরাপত্তাবোধ সবকিছু ভেঙে পড়েছিল। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিল এই ভেবে যে, সে যতটা লড়েছে, সমাজ ততটাই নির্লিপ্ত থেকেছে।

ঘরে ফিরে সে কাঁদেনি সঙ্গে সঙ্গে। আগে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে—“ভুলটা আমার ছিল না।” এই কথাটা বলতেই তার সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে। কারণ আমাদের সমাজ মেয়েদের আগে নিজেকেই অভিযুক্ত করে। পোশাক, সময়, রাস্তা—সবকিছুর হিসাব মেলানো হয়, অপরাধীর নয়।

কিছুদিন পর সে সিদ্ধান্ত নেয় চুপ থাকবে না। ভয় ছিল, লজ্জা ছিল, তবু সে কথা বলে। সহজ ছিল না। প্রশ্ন এসেছে, সন্দেহ এসেছে, এমনকি দোষারোপও। তবু সে পিছিয়ে যায়নি। কারণ সে বুঝেছিল, তার নীরবতা আরেকটা মেয়ের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এই গল্পটা শুধু তার নয়। এটা আমাদের চারপাশের অনেক অচেনা মুখের গল্প। যেখানে মেয়েরা শত চেষ্টা করেও নিরাপদ থাকে না, আর সমাজ অনেক সময় দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন প্রশ্ন উঠবে অপরাধীর দিকে, নীরবতার দিকে নয়। আর মেয়েদের ‘না’ বলার অধিকারকে আমরা সত্যিকারের সম্মান দিতে শিখব।




No comments:

Post a Comment