ছেলে রাগ করে মায়ের সাথে অনেক বছর ধরে দেখা করেনা। অনেক বছর ধরে মা বলে ডাকে না। অনেক বছর ধরে ছেলের সাথে দেখা নাই।
মায়ের মনটা সব সময় ছেলের জন্য ছট"ফট করছিল।
পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে সবসময় ছেলেকে নিয়ে গল্প করতো আর কা/ন্না করত মা।
(শিরোনাম)
আসল সত্য ঘটনা,,,,
ছেলের যখন মেট্রিক পাশ করে তখন একটি মেয়েকে পছন্দ করতো। তখন ছেলে মেয়েটাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল মা বাবা রাজি হয়নি বিয়ে দেওয়ার জন্য । কেননা তখন ছেলে ছোট ছিল পরে মেয়েটির অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায় । সেই দুঃখে কষ্টে ছেলেটি বাবার সাথে বে"য়াদবি করছিল।
বে'য়াদবি বলতে বাবার গা"য়ে হাত তুলেছিল ।হয়তো ছেলেটির বয়স কম অবুঝ ছিলো। যাইহোক চ"রম অপ"রাধ করেছিলো সেদিন ছেলেটা। তখন মা এগুলো দেখে অনেক জোরে জোরে দুইটা থা"প্পড় মেরে বলেছিল বাড়ি থেকে বের হয়ে যা। তুই আমার স"ন্তান না। অনেক ব"কাঝকা করছিল । আর সেই থেকে বাড়ি ছেরে গেলো আর আসলো না
।ছেলে জসিম চলে গেলো দুরে কোথায়।
সপ্তাহ যায়, মাস যায় ,ছেলে আর বাড়ি ফিরে না প্রতিদিন ছেলের জন্য মা অপেক্ষা করে থাকে কখন ছেলে বাড়ি আসবে কিন্তু ছেলে আর বাড়ি ফিরে না।
এভাবে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়।
তারপর থেকে জসিম বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকা চাকরি করতো বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করতো । এক কথায় নিরুদ্দেশ ছিল। বাড়িতে কোন যোগাযোগ রাখেনি কোন সময় খোঁজ খবর নেয়নি অনেক অভিমান করেছিল।
তাদের দুইটা ছেলে ছিল। ওই ছেলেটি ছিল তাদের বড় ছেলে। খুব আদরের ছেলে ছিল। নাম রেখেছিল জসিম। আর ছোট ছেলের নাম অয়ন।
ছোট ছেলে বাবা মার সাথে থাকলেও বড় ছেলেকে অনেক মিস করত বাবা-মা। বিশেষ করেও তার মা অনেক মিস করতো।
প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ছেলের জন্য কা'ন্না করত। এলাকার মসজিদে অনেকবার মানুষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হয়েছে।যাতে তার ছেলেটি যেখানেই থাকে যেন ভালো থাকে।
সেই যে ছেলেটি গেল আজ ৩ বছর হয়ে গেল ছেলেটির সাথে আজও দেখা নেই।
একটা সময় ছেলেটির জন্য মা অপেক্ষা করতে থাকে।
সব সময় পথ চেয়ে বসে থাকতো কখন তার ছেলেটি চলে আসবে।
বাবা ছেলেটার জন্য তেমন একটা দুঃখ না পেলেও মা অনেকটা দুঃখ পেয়েছে। এই সামান্য রাগের কারণে ছেলেটা এত অভিমান করবে মা-বাবা এটা বুঝতে পারেনি।
আর অন্যদিকে জসিম যাকে ভালবাসতো যার জন্য বাবা মার সাথে রাগ করে বাড়ি ছেড়েছে। সেই মেয়েটি মাঝে মাঝে খোঁজখবর নিতো জসিমের মায়ের কাছে আসে। মেয়েটির শ্বশুরবাড়ি থেকে যখনই বাপের বাড়ি আসতো তখন ঐ দৌড়ে ছুটে আসত জসিমের বাড়িতে আজও জসিমের কোন খোঁজ পাইলো কিনা। তখন ২০০৬ সাল।
তখন চিঠির লেনদেন হইতো বেশিরভাগ সময়। তখন ফোন বের হয়েছে কিন্তু ফোনে মানুষ কম কথা বলতো কেননা ফোনে অনেক টাকা খরচ হতো কথা বলতে।
তাছাড়া জসিমের কোন নাম্বার ঠিকানা নাই যে তার মা খোঁজখবর নিবে।
জসিম যাকে ভালোবাসতো তার আজ ১ টি মেয়ে সন্তান। ২০০৩ সালে যখন বিয়ে হয়েছিল।
ওরে ২০০৪ সালে সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
জসিমকে ভুলে সে অন্য জায়গায় সংসার করে এখন তার বা'চ্চা আছে। তারপরও মেয়েটি সময় পেলে জসিমের খবর নেয়। তারা দুজনে সত্যিকারের ভালোবাসা আবদ্ধ ছিল। তখনকার সময় মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যেত। এটাই ছিল মূল সমস্যা। তখন তারা ছিলো সমবয়সী।
মেয়েটি যখন শ্বশুর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি বেড়াতে আসতো তখন জসিমের বাড়িতে এসে মাঝে মাঝে খোঁজ নিতো যে জসিমের কোন খোঁজ পাওয়া গেছে নি । যখন শুনতো জসিমের খোঁজ পাওয়া যায়নি মেয়েটি অনেক দুঃখ প্রকাশ করতে এবং কা'ন্না করতো।
মেয়েটি নিজেকে দো"ষারোপ করতো তার কারণেই জসিম বাড়ি ছারা।
তখন জসিমের মা মাঝে মাঝে বলতো মেয়েটাকে বলতো যদি জানতাম তাহলে আমার ছেলেকে তোর সাথে বিয়ে দিতাম । আমার ছেলে জসিম এত অভিমানী আমি জানতাম না । আজ তিন বছর হয়ে যাচ্ছে আমার ছেলেটাকে আমি দেখতে পাচ্ছি না।
ছেলেটির আশেপাশের বন্ধুদের সাথে খোঁজ-খবর নিয়েছিল তাদের কারো সাথে যোগাযোগ নেই। সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মা বাবা শুধু জানতো ছেলেটি হয়তো বেঁচে আছে আর কিছু জানতে পারত না।
ছেলের একটি চিঠির জন্য মা অনেকদিন যাবত অপেক্ষা করেছিল। ছেলেটি যেখানেই থাকতো যাতে মাকে চিঠি দেয়। কিন্তু ছেলেটির কোন চিঠি আসেনা।
মাঝে মাঝে ডাক বিভাগে গিয়ে খবর নিত জসিম নামের কেউ চিঠি পাঠাইছে কিনা কিন্তু ডাক বিভাগ পোস্টমাস্টার বলতো কেউ চিঠি পাঠায়নি তখন খুব মন খারাপ হতো মায়ের।
২০০৭ সালে একদিন হঠাৎ একটি চিঠি আসে। কে পাঠিয়েছে জসিম পাঠিয়েছে। চিঠিতে কি লেখা ছিল,,,,,,চলবে।
সত্য ঘটনার: গল্প: অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছি
2003 সালে।
লেখক মোঃ সোরমান হোসেন রবিন।
আপনাদের ভালো না লাগলে পরের পর্ব দিব না। যদি বেশি লাইক কমেন্ট পাই তাহলে মনে করব আপনারা সত্য ঘটনাটি জানার জন্য পরের পর্ব জানতে চান। তা না হলে দেব না। ধন্যবাদ
((নোট: বাবা মায়ের গা"য়ে হাত তোলে এমন
বেয়াদব ছেলে বাংলাদেশ অহরহ আছে))
১ পার্ট শেষ। ২ পার্ট পেতে আমার এই পেজটাকে ফলো দিয়ে রাখুন। এই পেজে দুই পার্ট দেওয়া হবে।
পেজ: AB Shorman Hossain Robin
#গল্প

No comments:
Post a Comment